সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধায় র্যাব-১৩ এর অভিযানে মোঃ আল আমিন (২৭) নামের এক প্রতারককে...
সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধায় র্যাব-১৩ এর অভিযানে মোঃ আল আমিন (২৭) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে
র্যাব জানায়, বাংলাদেশ আমার অহংকার এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণাসহ গুরুতর সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আল আমিন নিজেকে একজন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে কর্মরত বলে পরিচয় দিয়ে এক সিএনজি চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। পরে ভিকটিমের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে ডেকে এনে ১৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ভিকটিম গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই নামে কোনো র্যাব সদস্য সেখানে কর্মরত নেই।
এ ঘটনায় ভিকটিম নন্দলাল বাদী হয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় দণ্ডবিধির ১৭০/৪০৬/৪২০ ধারায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১)।
এরই প্রেক্ষিতে গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ৪৫ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানাধীন দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি মোঃ আল আমিনকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার নারিকেলবাড়ী এলাকায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সেনা ও র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য সে মোবাইল ফোনে কর্নেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাম দিয়ে নম্বর সংরক্ষণ করতো এবং বাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করে প্রতারণা করতো।
গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর বুট, ব্যাগ, আইডি কার্ড, নেমপ্লেট, মোবাইল পাস, অফিসিয়াল সিল, হ্যান্ডকাফ, স্টিকার, ভুয়া চাকরি সংক্রান্ত নথিপত্র এবং একাধিক সিমকার্ডসহ একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম।

কোন মন্তব্য নেই