Page Nav

HIDE

Grid

GRID_STYLE

Hover Effects

TRUE
{fbt_classic_header}

Header Ad

ব্রেকিং নিউজ

latest

Ads Place

আজ হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস

 আজ ১৩ জানুয়ারি। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার ৩১তম বার্ষিকী, হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস...


 আজ ১৩ জানুয়ারি। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার ৩১তম বার্ষিকী, হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ভয়াবহ এক ট্রেন দুর্ঘটনায় সরকারি হিসেবে ২৭ জন প্রাণ হারান এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। দিনটি উপলক্ষে প্রতি বছরই হিলিবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস পালন করে আসছেন।

হিলি রেলওয়ে স্টেশন কার্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে গোয়ালন্দ থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী একটি লোকাল ট্রেন হিলি রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে সৈয়দপুর ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো স্টেশন এলাকা কেঁপে ওঠে। সংঘর্ষে লোকাল ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই স্টেশনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মানুষজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ২৭ জন বলা হলেও স্থানীয়দের দাবি, ওই দুর্ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। আহতদের অনেকেই আজও সেই দুর্ঘটনার শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বহন করে চলেছেন।

খবর পেয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনো পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাকিমপুর সাবেক প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সেই দিনের কথা মনে পড়লে আজও শরীর শিউরে ওঠে। আমরা তখন প্রেস ক্লাবে বসে ছিলাম। হঠাৎ ভয়ংকর শব্দ শুনে বুঝতে পারিনি কী ঘটেছে। পরে স্টেশনে গিয়ে দেখি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চারদিকে মানুষের কান্না, আহাজারি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করি।

তিনি আরও বলেন, জীবনে এত মানুষের প্রাণহানি একসঙ্গে আর কখনো দেখিনি। সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি আজও হিলির মানুষকে কাঁপিয়ে দেয়।

হিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বুলু জানান, প্রতিবছরের মতো এ বছরও ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় হিলি রেলস্টেশন প্লাটফর্মে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আলোচনা সভা ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস শুধু একটি শোকের দিন নয়, এটি রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়ার দিন। ৩১ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি আজও হিলিবাসীর হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটে রয়েছে।

মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম।

কোন মন্তব্য নেই

Ads Place